Photobazar24
শুক্রবার / ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৭

বাংলাদেশ কি হুমকির মুখে? যে হঠাৎ করেই এমন প্রতিরক্ষা চুক্তি : আসাদুজ্জামান রিপন

আপডেট: 2017-03-17 10:55:22
বাংলাদেশ কি হুমকির মুখে? যে হঠাৎ করেই এমন প্রতিরক্ষা চুক্তি : আসাদুজ্জামান রিপন

ফটোবাজার ; বাংলাদেশের অন্যতম বিরোধীদল বিএনপি বলছে, আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় ভারতের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার চুক্তি হলে বিএনপি তা সমর্থন করবে না। তবে আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলছেন, সফরে কোন চুক্তি হলে তা অবশ্যই আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ নিশ্চিত করেই হবে। বিবিসি বাংলার প্রবাহ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা বিষয়ক চুক্তি সম্পর্কে আলোচনায় তারা এমন মন্তব্য করেন।


দীর্ঘ ৭ বছর পর আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতদিন দুই দেশের মধ্যে তিস্তার পানি বন্টন ইস্যু আলোচিত হলেও এবারের সফরে আগেই বার বার গণমাধ্যমে উঠে আসছে একটি প্রতিরক্ষার চুক্তির সম্ভাব্যতা নিয়ে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারে ২৫ বছর মেয়াদি একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে হচ্ছে নানা বিতর্ক। যদিও কোন তরফ থেকেই এই চুক্তি আদৌ হবে কি না তা নিশ্চিত করা হয়নি।


কিন্তু সম্ভব্য এই চুক্তির বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোন নেতা কিছু জানে কিনা বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের নের্তৃত্বে বাংলাদেশ নামক দেশটি সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং আমাদের সঙ্গে ভারতের যে চুক্তিই হোক না কেন সেটা অবশ্যই বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করেই হবে। বাংলাদেশের স্বার্থ বিলিন করে কোন চুক্তি আওয়ামী লীগ সরকার করবে না।


কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় প্রতিরক্ষা চুক্তি হলেও তাতে বিএনপির আগে থেকে আপত্তির কারণ কি? এমন প্রশ্নের জাবাবে দলটির বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বাংলাদেশের সক্ষমতার জন্য যদি পারমানবিক  বোমের কথাও চিন্তা করা হয় তাহলে সেটাও জনগণ বিবেচনায় নিবে। কিন্তু তার আগে আমাদের জানা দরকার যে, বাংলাদেশ আদৌ কোন হুমকির সম্মুখিন হয়েছে কি না। আর যদি না হয়ে থাকে তাহলে হঠাৎ করে একটি বিশেষ দেশের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রশ্ন আসছে কেন? আর যদি সেটা আসে তাহলে আমি মনে করি জনগণের সেটা জানানোর দরকার আছে।


এদিকে চীন থেকে সাবমেরিন কিনেছে বাংলাদেশ তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কোন নেতিবাচক বক্তব্য শোনা না গেলেও ভারতের সাথে সম্ভব্য চুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়ে গেছে। তাহলে ভারতে সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার চেয়ে কি রাজনীতিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে? জবাবে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভারত বিরোধী সেন্টিমেন্ট তৈরি করে রাজনীতিতে একটা স্বার্থ হাসিল করার বিষয় আছে।


তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যাচ্ছেন তখন কিন্তু তিনি সব বিষয়েই অবহিত হয়েই যাবেন। সেখানে আলোচনা হবে। তারপরে কি কি সিদ্ধান্ত হবে সেটা কিন্তু আলোচনার আগে বলা মুশকিল।


কিন্তু আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, এখানে রাজনৈতির কোন খেলা নেই বরং তার দল বিএনপি মনে করে অস্ত্র কেনার বিষয়টি সশস্ত্রবাহিনীর প্রয়োজনের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক হওয়া উচিত।


তিনি আরও বলেন, আজকে যে কথাগুলো উঠেছে সেটা হচ্ছে, ভারত আমাদের কাছে ৫শ’মিলিয়ন ডলারের একটা ক্রেডিট অফার করতে চেয়েছেন। পত্রিকার খবর অনুযায়ী আমরা জানি যে, ভারত আমাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে চান। কিন্ত আমার জানামতে ভারত নিজেই বিভিন্ন দেশ থেকে অস্ত্র কিনে।


তাছাড়া বাংলাদেশ চীন, রাশিয়া থেকে অস্ত্র কিনে সেখানে আবার নতুন করে কেন ভারতে থেকে অস্ত্র কিনতে হবে? সেটা আমার দল সমর্থন করে না। আমরা মনে করি এই বিষয়ে জনগণের জানা দরকার।



সর্বশেষ খবর