Photobazar24
রবিবার / ২৫শে জুন ২০১৭

গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রে ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি 

আপডেট: 2017-03-21 19:56:15
গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রে ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি 

ফটোবাজার ;  মাগুরায় এক জনসভায় বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ও আমেরিকার সহযোগিতায় ক্ষমতায় আসে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এসেই সারাদেশে শুরু করে অত্যাচার নির্যাতন। তাদের সেই নির্যাতনের কথা মাগুরাবাসী এখনো ভুলেনি।’
মঙ্গলবার বিকালে মাগুরায় ২৯ টি প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন শেষে এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনারা দেশের স্বাধীনতা পেয়েছেন, বাংলা ভাষায় কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন এবং উন্নয়নের মুখ দেখেছেন আশা করি, আগামী ২০১৯ সালে সেই জাতীয় নির্বাচনেও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আপনারা সেবা করার সুযোগ দিবেন।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা আপনাদের ভোট চুরি করেছিল, আর ভোট চুরির অপরাধে বাংলাদেশের জনগণ যাদের ক্ষমতা থেকে হটিয়েছে। দুর্নীতি সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মারা যাদের কাজ তারা এদেশে ক্ষমতায় আসলে আবার দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এসে মাগুরায় একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হালের গরু নিয়ে তারা জবাই করে খেয়েছে। খেতের ফসল নষ্ট করেছে, পুকুরের মাছ তুলে নিয়েছে, বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে।’ এ সময় তিনি বিএনপির আমলে খুন হওয়া মাগুরার নেতাদের তালিকা পড়ে শোনান।
শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, ‘বিএনপির হাতে যেমন দেশের মানুষ নিরাপদ নয় তেমনি ধর্মও নিরাপদ নয়। তারা মানুষকে যেমন পুড়ে মেরেছে তেমনি বায়তুল মোকাররমে কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে।’
শেখ হাসিনা পরপর দুইবার ক্ষমতায় এসে কী কী উন্নয়ন করেছেন এর বিবরণ দেন। আজ মাগুরায় যেসব উন্নয়নকাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন এর তালিকাও জনসভায় পাঠ করে শোনান। এসব উন্নয়নকে তিনি ‘মাগুরাবাসীর জন্য উপহার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। মাগুরাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি রেললাইনের। সে দাবি পূরণেরও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিলাম দেশকে ডিজিটাল করবো। আমরা ক্ষমতায় এসে তা করেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল এখন সবাই পাচ্ছে। এর মাধ্যমে অনেকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আমরা যুবকদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। এতে তারা বিদেশে গিয়েও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। এখন সবার হাতে হাতে মোবাইল। এর সুফল জাতি ভোগ করছে আমাদের কল্যাণেই।’
বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূলে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। অভিভাবক, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, মুরব্বি, মসজিদের ইমাম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সমাজের সবস্তরের মানুষের কাছে জঙ্গিবাদ দমনে বিশেষ সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কী করছে এর খোঁজখবর রাখবেন। ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপারে শিক্ষকদের খোঁজ রাখার আহ্বান জানান তিনি। কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের ভালো হয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখনো সময় আছে, ফিরে আসুন। আমরা সুন্দর জীবন গড়তে যা যা করার সব ব্যবস্থা করে দেব।’
শেখ হাসিনা জানান, বিএনপির আমলে দেশে বিদ্যুতের হাহাকার ছিল। কিন্তু এখন পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ মজুদ আছে। তিনি জানান, ২০২১ সালের মধ্যে দেশের কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না। প্রত্যেক ঘরে ঘরে আলো জ্বলবে।
জনসভার শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী মাগুরাবাসীর কাছে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন। দেশের উন্নয়নে গতি ধরে রাখতে আবার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, তার হারানোর আর কিছু নেই। জাতির জনকের কন্যা হিসেবে তিনি প্রয়োজনে বাবার মতো বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হলেও দেশবাসীর জন্য কাজ করবেন।



সর্বশেষ খবর