Photobazar24
মঙ্গলবার / ২২শে অগাস্ট ২০১৭

লস্কর-ই তৈয়বা বাংলাদেশের জঙ্গিদের উস্কে দিচ্ছে

আপডেট: 2017-03-21 20:10:39
 লস্কর-ই তৈয়বা বাংলাদেশের জঙ্গিদের উস্কে দিচ্ছে

বাংলাদেশের জঙ্গিদের সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক উগ্র জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই তৈয়বার বিশেষ সম্পর্কের কথা জানতে পেরেছে গোয়েন্দারা। তারা ঘাপটি মেরে থাকা বাংলাদেশী জঙ্গিদের উস্কে দিচ্ছে বলেও গোয়েন্দারের কাছে খবর রয়েছে।
অব্যাহত পুলিশী অভিযানে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়া জঙ্গিরা লস্কর-ই তৈয়বার যোগসাজশেই আবার মাথাচাড় দিয়ে উঠছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সূত্রজানায়, ইতিপূর্বে লস্কর-ই তৈয়বার সাথে হেফাজত ইসলামের বিশেষ সম্পর্ক ছিল। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের ডাউকি এলাকা থেকে ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেফতার লস্কর-ই তৈয়বার দুই জঙ্গি সদস্য নাজের পারবন এবং শফিক ওরফে সাহাফাজ শামসুদ্দিন ভারতীয় পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছিল, তাদের সঙ্গে ২০০৯ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশে চট্টগ্রামের লালখান বাজার মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি ইজহারের পুত্র মুফতি হারুন ইজহারের কয়েক দফা বৈঠক হয়। মুফতি হারুনের সঙ্গে বৈঠক করে তারা মার্কিন ও ভারতীয় দূতাবাসে হামলারও পরিকল্পনা নেয়। লস্কর-ই-তৈয়বার দুই সদস্যের ভারতীয় পুলিশের কাছে এমন স্বীকারোক্তির পর মুফতি হারুনকে  গ্রেফতার করে বাংলাদেশের পুলিশ। ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর মুফতি ইজহার পরিচালিত চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকায় জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার তৃতীয় তলার একটি কক্ষে বিস্ফোরণ ঘটে।  গ্রেনেড ও বোমা তৈরির সময় এই বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর আহত তিন মাদ্রাসা ছাত্র। তারা ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। সূত্র জানায়, বাংলাদেশে শীর্ষ জঙ্গিরা অনেকেই পাকিস্তানের দূর্গম অঞ্চলে লস্কর ই তৈয়বার আশ্রয়ে আছে।
লস্কর-ই তৈয়বার প্রধান খুররম খৈয়ামসহ অন্তত ১২ জঙ্গি নেতা বাংলাদেশি জঙ্গিদের অর্থ ও লজিস্টিক সাপোর্ট দিচ্ছেন। তাদের মাধ্যমে দুবাই, পাকিস্তান ও সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে অর্থ আসছে জঙ্গিদের কাছে। ভারত হয়ে সীমান্ত গলিয়েও অস্ত্রের যোগান আসছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, দেশের বিভিন্নস্থানে ঘাঁটি গেড়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনের জঙ্গিরা। সদস্যদের দেওয়া হচ্ছে বিশেষ প্রশিক্ষণ। জানাগেছে জঙ্গিরা এখন আত্মঘাতি হামলার পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। তারা ইতিমধ্যে একাধিক ব্যার্থ আত্মঘাতি হামলা চালিয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরো এ ধরনের হামলার আশঙ্কা করছে গোয়েন্দারা।
উল্লেখিত দেশগুলোর বিভিন্ন উগ্র ইসলামপন্থী সংস্থা ও এনজিওর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে খুররম খৈয়াম বাংলাদেশের জঙ্গি নেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছে। খুররমের নির্দেশে ইতোপূর্বে লস্কর-ই তৈয়বার একাধিক নেতা গোপনে বাংলাদেশে ঘুরে গেছে বলেও গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছে।
এ ব্যাপারে ডিআইজি ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট হুমায়ুন কবীর বলেন, জঙ্গিরা কৌশল হিসেবে আত্মঘাতি হামলার পরিকল্পনা করছে। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে সারাদেশে পুলিশ বাহিনীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
সূত্রমতে আত্মঘাতি জঙ্গিরা পরবর্তী তালিকার টার্গেট হিসেবে গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা এবং পুলিশের উপর হামলা চালাতে পারে বলেও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।



সর্বশেষ খবর