Photobazar24
শুক্রবার / ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৭

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনারা চুপ থাকেন

আপডেট: 2017-03-21 20:17:02
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনারা চুপ থাকেন

সন্তানহারা মা আনোয়ারা বেগমের খোঁজে ঢাকা থেকে কুমিল্লায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে শুনলাম, তিনি ১৮ মার্চ বিকেলেই গ্রামের বাড়ি যাবেন মেয়ের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে। জিজ্ঞেস করলাম, কখন যাবেন? আনোয়ারা বেগমের ছোট ছেলে ও তনুর ভাই রুবেল টেলিফোনে জানান, বেলা িতনটায়।

আমরা ঠিক করলাম, তাঁর সঙ্গে দেখা করতেই হবে। কিন্তু কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে তনুর বাবা-মা যেখানে থাকেন, সেখানে গিয়ে দেখা করা যাবে না। আগেরবার শহরে এসেছিলেন।

রুবেলকে বললাম, মুরাদনগর যাওয়ার পথে কোথাও তাঁদের সঙ্গে কথা বলব। তাঁরা রাজি হলেন। কিন্তু কুমিল্লা শহর থেকে মহাসড়কে যেখান থেকে মুরাদনগরের বাস ছাড়ে, সেখানে যাওয়া বেশ ঝক্কির ব্যাপার। মহাসড়কে সিএনজিচালিত স্কুটার, ইজিবাইক চলে না। শহর থেকে প্রথমে বিশ্ব রোড মোড় পর্যন্ত স্কুটারে গেলাম। সেখান থেকে রিকশায় সেনাকল্যাণ সমিতির মার্কেটের নিচে গিয়ে কয়েকবার টেলিফোন দিলাম। রুবেল টেলিফোন ধরলেও কথা বোঝা যাচ্ছে না। বাসস্ট্যান্ডে হইচই, চিৎকার।

সামনে তাকাতেই দেখি একটি লোকাল বাসের সামনের দিকের আসনে বসে আছেন তনুর মা আনোয়ারা বেগম। পাশে রুবেল। সালাম দিতেই চিনতে পারলেন। বাস তখন ছেড়ে দেয় দেয় অবস্থা। মন খারাপ হয়ে গেল। এত দূর এসে ফিরে যাব?

কিন্তু আনোয়ারা বেগম আমাদের দিকে তাকালেন। একটু ভাবলেন। তারপর বাসের কর্মীকে বললেন, ‘পরের বাসে যাব।’

ছেলে রুবেলকে নিয়ে তিনি নেমে এলেন। তনু নেই। আনোয়ারা বেগম এক বছর ধরে তার স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। মেয়ে হত্যার বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কেউ তাঁকে আশ্বস্ত করতে পারেনি। রাষ্ট্র, আইন, সমাজ—কেউ না। 

  শুরুতেই আনোয়ারা বেগমকে জিজ্ঞাসা করি, এক বছর তো পূর্ণ হলো। তনু হত্যার তদন্ত কতটা এগুলো? বিষাদ কণ্ঠে তিনি বললেন, তদন্ত কর্মকর্তা জালাল সাহেব নিজে কিছু বলেন না। যখনই জিজ্ঞেস করি, বলেন, ‘আপনারা চুপ থাকেন। পত্রিকায়, টিভিতে তনুর ছবি দেখাবেন না।’

: তখন আপনি তাঁকে কী বললেন?



সর্বশেষ খবর