Photobazar24
রবিবার / ২৫শে জুন ২০১৭

ওসিকে জমি লিখে না দেয়ায় ইয়াবা মামলায় ফাঁসলো বৃদ্ধা

আপডেট: 2017-03-22 19:52:44
 ওসিকে জমি লিখে না দেয়ায় ইয়াবা মামলায় ফাঁসলো বৃদ্ধা

ফটোবাজার ; যাত্রাবাড়ী থানার ওসিকে জমি লিখে না দেয়ায় ইয়াবা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ করেছেন দনিয়া এলাকার বাসিন্দা সুরাইয়া বেগম কামনা। বুধবার সকালে সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন মিলনাতনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।


লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ী এলাকার দনিয়া মৌজার ৪৩২ খতিয়ানভুক্ত ১০২৫ দাগের ১০ শতাংশ জমি তার বাবা মৃত গোলাম মর্তুজা আলী ক্রয় করেন। সেখানেই তার বসবাস করে আসছেন। হঠাৎ স্থানীয় ভূমিদস্যু আবুল খায়ের আমাদের বাড়িটি দখলের পায়তার শুরু করে। এনিয়ে দফায় দফায় বিচার শালিসও হয়। এ বিষয়ে গতবছর ১৪ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর আবুল খায়ের আরও ক্ষুব্দ হয়ে তার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগে। পরে এ ঘটনায় কোর্টে একটি মামলাও করা হয়। ওই মামলার সূত্র ধরে যাত্রাবাড়ি থানার ওসি ও খায়ের আমাদের ওপর বিভিন্ন চাপ সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে ওসি তাকে বাড়িটি নাম মাত্র টাকায় বিক্রির প্রস্তাব দেয়।
তিনি বলেন, তিনি রাজি না হলে বিভিন্ন মামলার ভয়ভীতি দেখায় ওসি। একপর্যায়ে গতবছর ২৯ আগষ্ট সকাল আনুমানিক পৌনে ৭টার দিকে এসআই মোস্তফা কামাল তার বাসায় প্রবেশ করে তিন পিস ইয়াবা দিয়ে থানায় নিয়ে যায়। ওই সময় তার হাত ব্যাগের ভেতর ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে ভাড়া বাবদ তোলা নগদ ৩৫ হাজার ৭০০ টাকা ও একটি সোনার চেইন নিয়ে নেয়। থানায় নেওয়ার পর ৪৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে এমন অভিযোগে মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠায় তারা। পরে ওই মামলায় রিমান্ডেও আনে পুলিশ।


রিমান্ডে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্মম নির্যাতন করা হয়। ওসি সাহেব বারবার আবুল খায়েরের নামে তাকে জমি লিখে দিতে বলেন। এমনকি কারাগারে থাকাবস্থায়ও লোক পাঠিয়ে তাকে জমি লিখে দেয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। বলা হয়, জমি লিখে দিলে এই মামলা থেকে অব্যহতি দেয়া হবে।


সুরাইয়া বলেন, তাকে জেলে পাঠানোর পরপরই তার জমিটি দখল করে নিয়ে সেখানে স্থাপনা তৈরি করে আবুল খায়ের। ওই জমিতে প্রবেশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যা ওসিকে দেখানোর পরও তার নির্দেশে স্থাপনা তৈরির কাজ চলছে। এ অবস্থায় সরকারের বিভিন্ন দফতরে ঘুরে ঘুরে কোন বিচার পাচ্ছেননা তিনি।
তিনি বলেন, স্থানীয় একটি সূত্রে জানতে পারেন আবুল খায়ের তার জমিতে ভবন বানিয়ে সেখানে দুটি ফ্লাট ওসি সাহেবকে দিবেন বলে চুক্তি করেছেন। আর এ কারনে বৃদ্ধ বয়সেও ইয়াবার মামলা দিয়ে তাকে হয়রানী করা হচ্ছে। দীর্ঘ ৫ মাস জেল খেটে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পান সুরাইয়া।
কিন্তু আবুল খায়ের ও ওসির কারনে বর্তমানে আমার জমিতে যেতে পারছিনা। এ বিষয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বরাবরেও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
বর্তমানে নিজ  বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকছেন সুরাইয়া। তার বাড়ি ফিরে পাওয়া এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তার এহেন কর্মকান্ডের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন তিনি।



সর্বশেষ খবর