Photobazar24
শুক্রবার / ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৭

এনআইডি অনুবিভাগকে অধিদপ্তর করার প্রস্তাব আসছে

আপডেট: 2017-03-17 11:06:17
এনআইডি অনুবিভাগকে অধিদপ্তর করার প্রস্তাব আসছে

ফটোবাজার ; জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের কর্ম পরিধি বাড়ায় এটিকে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অধিদপ্তরে রূপান্তর করার প্রস্তাব উঠছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। পাশাপাশি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে জনবল বৃদ্ধির নতুন বিধিমালা সংশোধন করার প্রস্তাবও দেওয়া হচ্ছে কমিশনে। এনআইডি অনুবিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।


সূত্র জানায়, বর্তমানে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে ১৮টি ক্যাটাগরিতে পদের সংখ্যা ৭১টি। এর মধ্যে কর্মরত আছে ৩৬ জন। শুন্য পদ ৩৫টি। এছাড়া জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের অধীনে প্রকল্পের ২০০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। সারাদেশে পরিচয়পত্র বিতরণের জন্য এই জনবল খুবই কম হওয়ায় এ বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব করা হচ্ছে।
 
এনআইডি উইংয়ের নতুন প্রস্তাবনায় ২৮টি ক্যাটাগরিতে মোট ৪৮৯টি পদ রাখার কথা ‍উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে মহাপরিচালক পদ একটি, অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদ ৫টি (নতুন), পরিচালক পদ ১০টি যা আগে ছিল ২টি, উপ-পরিচালক পদ-২১টি যা আগে ছিল ৪টি, সহকারী পরিচালক ৪০টি যা আগে ছিল ৮টি, সিস্টেম ম্যানেজার ১টি, প্রিন্সিপাল মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার পদ ২টি (নতুন), সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট পদ ১টি (নতুন), সিস্টেম এনালিস্ট পদ ২টি, প্রোগ্রামার পদ ৪টি যা আগে ছিল ৩টি, মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার পদ ৪টি যা আগে ছিল ১টি, সহকারি প্রোগ্রামার পদ ৮টি যা আগে ছিল ৬টি, মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার পদ ৮টি যা আগে ছিল ১টি, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা ১টি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদ ৬৭টি (নতুন), ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদ ১৯টি (নতুন), ফটোগ্রাফার পদ ২টি, হিসাব সহকারি পদ ২টি, ক্যাশ সরকার পদ ১টি (নতুন), অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর পদ ৭২টি যা আগে ছিল ১৪টি, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদ ১০৮টি যা আগে ছিল ৮টি, ডেসপাচ রাইডার ২ জন (নতুন), এইচপিআর (হেলপার অব প্রিন্টিং) পদ ২টি, ড্রাইভার পদ ৩৪টি যা আগে ছিল ৫টি, পরিচ্ছন্নতা কর্মী (সাবেক ঝাড়ুদার) ৬টি নতুন এবং নিরাপত্তা কর্মী (সাবেক নৈশ প্রহরী) পদ ৮টি (নতুন)।
এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কমিউনিকেশন অফিসার মো. আশিকুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগকে অধিদপ্তরে রূপান্তর করার একটা প্রস্তাবনা আছে। এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।বিষয়টি খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। তবে এটা কিন্তু প্রোজেক্ট নয়, এনআইডির বিষয়। আর উপজেলা অফিসারদের নিয়ে যে অর্গানোগ্রামটা করা হয়েছিল সেটি ২০০৫ সালের। আর এরা আসলে কাজ করতো শুধু নির্বাচন নিয়ে। জাতীয় পরিচয়পত্র আসার পর থেকে কাজের ভলিউমটা অনেক বাড়ছে। সেখানে ভোটার তালিকা করা, নির্বাচন করাসহ নানা কাজ রয়েছে। বর্তমানে যা করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাই এটাকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনার একটা পরিকল্পনা চলছে।
তবে অধিদপ্তর হলেও এটি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীনেই থাকবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
এনআইডি অনুবিভাগ সূত্রে জানা যায়, আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং এক্সেস টু সার্ভিস’ (আইডিইএ) প্রকল্পের আওতায় আগামী জুনের মধ্যে সাড়ে নয় কোটি নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড পৌঁছে দেয়ার কথা রয়েছে। যা নির্ধারিত সময়ে করা সম্ভব নয়। দেশের নাগরিকদের ভোগান্তি দূর করতে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অধিদপ্তরে করার জন্য একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, এক সময় জাতীয় পরিচয়পত্র মানুষ নিতে চাইতো না। এখন দেশের সকল নাগরিক এ কার্ড নিতে চায়। জনগণের চাহিদার তুলনায় জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে জনবল খুবই। পরিচয় পত্র নিতে এসে অনেক মানুষকে হয়রানি হতেই হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আগামীতে দেশের নাগরিকদের যাতে কোন হয়রানি হতে না হয় সেজন্য অধিদপ্তর করার প্রয়োজন।
এ কর্মকর্তা আরো বলেন, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগকে অধিদপ্তর করা হলে দেশের মানুষ সুযোগ সুবিধা পাবে। এতে করে হয়রানি দূর হবে। এখন এটি প্রকল্প দিয়ে চলছে। প্রকল্প শেষ হলে আবার নতুন লোক আসে। আবার যখন বরাদ্দ হয় তখন প্রকল্পের কাজ শরু হয়। প্রকল্পের চেয়ে একটি স্থায়ী সমাধান করা ভাল।
নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, প্রস্তাবনাটি এখনো আমার কাছে আসেনি। আসলে বলতে পারবো।



সর্বশেষ খবর