Photobazar24
মঙ্গলবার / ২২শে অগাস্ট ২০১৭

রাজনীতি
গোপন চুক্তির মাধ্যমে দেশকে দাসত্বে পরিণত করা হচ্ছে : নোমান
গোপন চুক্তির মাধ্যমে দেশকে দাসত্বে পরিণত করা হচ্ছে : নোমান

 ভারতের সাথে গোপন চুক্তির মাধ্যমে দেশকে আওয়ামী লীগ সরকার দাসত্বে পরিণত করতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান। তিনি বলেন, এর আগেও আওয়ামী লীগ ভারতের সঙ্গে ২৫ বছরের জন্য চুক্তি করে বাংলাদেশকে দাসত্বে পরিণত করেছিল। আবারো ষড়যন্ত্র করে আগের মতোই চুক্তি করার পাঁয়তারা করছে।
মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক স্মরণ সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
‘বিএনপির সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক উইং কমান্ডার (অব.) হামীদুল্লাহ খান বীর প্রতীক’র স্মরণে এ সভায় তিনি বলেন, ভারতের সাথে তিস্তার পানির চুক্তি কখনো সম্ভব নয়। আর এটা পানি মন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সুতরাং পানি চুক্তির নামে গোপন চুক্তি করা হচ্ছে- দাবি নোমানের।
আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ভারত তাদের স্বার্থে যে সব চুক্তি করেছে, তার সবই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর প্রমাণ হলো, ভারত নদী বন্দর, স্থলবন্দর ব্যবহার করছে এবং বিদ্যুৎও উৎপাদন করছে। কিন্তু বাংলাদেশের স্বার্থে কোনো চুক্তি হয়নি। দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে সরকার খেলা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সভায় কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন।

বিএনপি জঙ্গিদের উস্কানি দিচ্ছে : ১৪ দল
বিএনপি জঙ্গিদের উস্কানি দিচ্ছে : ১৪ দল

জঙ্গিবাদ ইস্যুতে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেছে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট। বিএনপি মহাসচিবসহ শীর্ষ নেতারা জঙ্গিদের উস্কানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ জোটটির মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের। মঙ্গলবার দুপুরে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের নাসিম বলেন, কোনো দেশে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সরকার, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী যখন পদক্ষেপ নেয়, তখন তাদের সহায়তা করতে হয়, সাহস দিতে হয়। কিন্তু বিএনপি জঙ্গিদের উস্কানি দিচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাসিম আরো বলেন, বিএনপি নেতারা যেসব কথা বলছে তা দুঃখজনক। জঙ্গিবাদের প্রতি তাদের দরদ এসব বক্তব্যে প্রকাশ পাচ্ছে।
তিনি বলেন, জঙ্গিদের সাথে তাদের (বিএনপি) যে সম্পর্ক তা নতুন করে প্রমাণ হচ্ছে, তাদের মহাসচিব ও অন্য নেতাদের বক্তব্যে।
জঙ্গিবাদ দমনে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন কি না জানতে চাইলে নাসি বলেন, দেশপ্রেমিক জনগণ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। আর এ বিষয়ে কাউকে আহ্বান জানানোর কিছু নেই।
এদিকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এপ্রিলের ২য় সপ্তাহ থেকে সারাদেশে জনমত গড়তে ১৪ দল জনসংযোগ ও সমাবেশ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভারতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে নাসিম বলেন, অতীতের মতো প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরেও দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাদান হবে বলে আমরা আশা করছি।
এছাড়া জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আগামী ২৫ মার্চ সকাল ১১টায় মিরপুর ১০ নম্বরের বধ্যভূমি ও ৩০ মার্চ দুপুর ২টায় যশোরের চুকনগরে ১৪ দল সমাবেশ করবে বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার নেতৃত্বে ১৪ দলের একটি দল যাবে।
এর আগে দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে ১৪ দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

খালেদার আঁচলের নিচেই জঙ্গির আশ্রয়: ড. হাছান মাহমুদ
খালেদার আঁচলের নিচেই জঙ্গির আশ্রয়: ড. হাছান মাহমুদ

ফটোবাজার ; আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আঁচলের নিচেই জঙ্গির আশ্রয়-প্রশ্রয়৷ আর বিএনপি-জামায়াত নেতারাই তাদের পৃষ্ঠপোষক৷

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষণ মহড়া কক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন৷

এ সময় হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যে শুধু বিষোদগার করেন তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী নাকি মিথ্যা কথা বলেন, এমন কথাও ফখরুল বলেন৷ লোকে বলে মির্জা ফখরুল নিজেই মিথ্যা কথা বলতে বলতে মিথ্যা ফখরুল হয়ে গেছেন। কারণ, ক্রমাগত মিথ্যাকথা বলায় তিনি যে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন, সে কারণেই তিনি এখন দলটির ভারপ্রাপ্ত থেকে ভারমুক্ত মহাসচিব হয়েছেন৷ তিনি বিএনপির অতীতের সব মহাসচিবের মিথ্যা বলার রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন।

আওয়ামী লীগের এই মুখপাত্র বলেন, জনগণের কাছে জামায়াতের রাজনীতি এখন চোরাবালিতে পরিণত হয়েছে৷ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তারা বর্তমানে হরকাতুল জেহাদ, জেএমবিসহ বিভিন্ন নামে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ছে৷ এসব জঙ্গি সংগঠনকে মদত দিচ্ছে বিএনপি নেতারা এবং জোট নেত্রী খালেদা জিয়া৷

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এমন সময় হত্যা করা হয়েছিল যখন দেশের উন্নয়নের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ; দেশ স্বাধীনের ৪৪ বছর পরে এসেও যা অর্জন করা সম্ভব হয়নি৷ আমরা যে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের গল্প শুনি আজ থেকে অনেক আগেই বিভিন্ন দেশের মানুষ বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প শুনতো৷
 
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট সভাপতি চিত্রনায়ক ফারুকের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফাল্গুনী হামিদ, মুখপাত্র হাবিবুর রহমান, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আব্দুল মোমেন, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ফয়জুদ্দিন মিয়া, এমএ করিম প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ

ফটোবাজার ; নারায়ণগঞ্জ: বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ছাড়াই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করছে, এতেই প্রমাণিত হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওই প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও গভর্নিং বডির সদস্য শারমিন হাবিব বিন্নি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ায় তাদের সংবর্ধনা দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, এ সরকারের আমলে বিশ্বব্যাংককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকার পদ্মাসেতু করছি আমরা। ২০০৯ সালে এসেও আমরা দেখেছি ২৬ হাজার টন খাদ্য ঘাটতি। সেই খাদ্যঘাটতি পূরণ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন খাদ্য রফতানি করছি।

ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ স্কুলের শিক্ষার্থীরাই হাতের রক্ত দিয়ে যেভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, এতে আমাদের আন্দোলন আরও বেগবান হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর আমাদের দেশের নির্দিষ্ট সীমানা ছিল না আমরা ক্ষমতায় আসার পর আমাদের প্রধানমন্ত্রী সমুদ্র জয় করে আমাদের দেশের সীমানা নির্ধারণ করেছেন। এতে আমাদের দেশ জল ও স্থলসীমানায় বিশ্বের কাছে নতুনভাবে পরিচিত হয়েছি। এতে আমরা যে খনিজ সম্পদ পেয়েছি তা যদি আমরা উত্তোলন করতে পারি, তবে আমরা ২০৪১ সালের আগেই উন্নত দেশে পরিণত হতে পারবো।

মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইদুল রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হুসনে আরা বাবলী।

উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক শাহ নিজাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু প্রমুখ।

আমার জন্মদিনই কী আর মৃত্যুদিনই কী
আমার জন্মদিনই কী আর মৃত্যুদিনই কী

ফটোবাজার ; প্রতিবছর যখন সতেরোই মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনে ফিরে আসে তখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কথা বেশি করে মনে পড়ে। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু জন্মেছিলেন এই বাংলার মাটিতে। এই দিনটি যদি বাঙালি জাতির জীবনে না আসত তাহলে আজও আমরা পাকিস্তানের দাসত্বের নিগড়ে আবদ্ধ থাকতাম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছিলেন। ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। আমৃত্যু দেশ ও জাতির জন্য, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। আমি বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য। বঙ্গবন্ধুর কাছে থাকার দুর্লভ সৌভাগ্যের অধিকারী। কাছে থেকে দেখেছি কত বড় মন এই মহান নেতার। কীভাবে তিনি বাংলার মানুষকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতেন। বাংলার গরিব-দুঃখী-মেহনতি মানুষ ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রাণ। যাদের কল্যাণে তিনি সারাটি জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমরা যারা রাজনীতি করি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলি, তাদের উচিত বঙ্গবন্ধুর চাল-চলন, আচার-আচরণ, সহকর্মীদের প্রতি যে স্নেহ-ভালোবাসা তা অনুসরণ করা।
বঙ্গবন্ধুর একান্ত সান্নিধ্যে থেকে দেখেছি তার কৃতজ্ঞতাবোধ, বিনয়, মানুষের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা। আকাশের মতো উদার হৃদয় ও জ্যোতির্ময় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন তিনি। স্বদেশে কিংবা বিদেশে সমসাময়িক নেতা বা রাষ্ট্রনায়কদের তেজোময় ব্যক্তিত্বের ছটায় সম্মোহিত করার, উদ্দীপ্ত করার এক আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল বঙ্গবন্ধুর। বীরত্ব, সাহস ও তেজস্বতার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে তিনি ছিলেন ভাস্বর। তার কাছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ছিল ন্যায়সঙ্গত। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে তার একটা তহবিল থাকত আমার কাছে। এই তহবিল থেকে বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন জনকে সাহায্য-সহায়তা করতেন। এর মধ্যে দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও বিরোধী দলের প্রতিপক্ষীয় লোকজনও ছিলেন। কিন্তু শর্ত ছিল যাদের অর্থ সাহায্য দেওয়া হচ্ছে তাদের নাম-ঠিকানা গোপন রাখতে হবে, প্রকাশ করা যাবে না। বঙ্গবন্ধু কখনই মানুষের মনে আঘাত দিয়ে কথা বলতেন না। তার রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল মার্জিত। কখনই রাজনৈতিক বক্তব্যে ব্যক্তিগত বিষয়কে প্রাধান্য দিতেন না। বঙ্গবন্ধুর সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা ছিল অসাধারণ। সময়ের একচুল হেরফের হতো না, ঘড়ি ধরে অনুষ্ঠানাদিতে যেতেন। দলের নেতা-কর্মী সবার প্রতি ছিল গভীর মমত্ববোধ। তাদের কাজের মর্যাদা দিতেন, ভালোবেসে বুকে টেনে নিতেন। অফুরন্ত প্রাণশক্তির অধিকারী বঙ্গবন্ধুর সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল অপরিসীম। এক মুহূর্তে মানুষকে আপন করে নেওয়ার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা ছিল তার। নীতির প্রশ্নে ছিলেন অটল।

ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না: আ স ম আবদুর রব
ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না: আ স ম আবদুর রব

ফটোবাজার ; জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, বিএনপি নাকি এর আগে ‘র’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে ক্ষমতায় এসেছিল। উনি কি আসলে জনগণকে সাবধান করতে চেয়েছেন নাকিÑঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না, সেটাই বলতে চেয়েছেন তা আমরা জানি না।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
 
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যকরে আ স ম আব্দুর রব বলেন, আপনার যেহেতু দালালি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা রয়েছে, সুতরাং আশা করব তিস্তা পানি চুক্তি করে আপনি দেশে ফিরে আসবেন।
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় সদস্য মমিনুল ইসলাম, জিল্লুর রহমান, শহিদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ।আরটিএনএন

বাংলাদেশ কি হুমকির মুখে? যে হঠাৎ করেই এমন প্রতিরক্ষা চুক্তি : আসাদুজ্জামান রিপন
বাংলাদেশ কি হুমকির মুখে? যে হঠাৎ করেই এমন প্রতিরক্ষা চুক্তি : আসাদুজ্জামান রিপন

ফটোবাজার ; বাংলাদেশের অন্যতম বিরোধীদল বিএনপি বলছে, আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় ভারতের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার চুক্তি হলে বিএনপি তা সমর্থন করবে না। তবে আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলছেন, সফরে কোন চুক্তি হলে তা অবশ্যই আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ নিশ্চিত করেই হবে। বিবিসি বাংলার প্রবাহ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা বিষয়ক চুক্তি সম্পর্কে আলোচনায় তারা এমন মন্তব্য করেন।


দীর্ঘ ৭ বছর পর আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতদিন দুই দেশের মধ্যে তিস্তার পানি বন্টন ইস্যু আলোচিত হলেও এবারের সফরে আগেই বার বার গণমাধ্যমে উঠে আসছে একটি প্রতিরক্ষার চুক্তির সম্ভাব্যতা নিয়ে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারে ২৫ বছর মেয়াদি একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে হচ্ছে নানা বিতর্ক। যদিও কোন তরফ থেকেই এই চুক্তি আদৌ হবে কি না তা নিশ্চিত করা হয়নি।


কিন্তু সম্ভব্য এই চুক্তির বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোন নেতা কিছু জানে কিনা বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের নের্তৃত্বে বাংলাদেশ নামক দেশটি সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং আমাদের সঙ্গে ভারতের যে চুক্তিই হোক না কেন সেটা অবশ্যই বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করেই হবে। বাংলাদেশের স্বার্থ বিলিন করে কোন চুক্তি আওয়ামী লীগ সরকার করবে না।


কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় প্রতিরক্ষা চুক্তি হলেও তাতে বিএনপির আগে থেকে আপত্তির কারণ কি? এমন প্রশ্নের জাবাবে দলটির বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বাংলাদেশের সক্ষমতার জন্য যদি পারমানবিক  বোমের কথাও চিন্তা করা হয় তাহলে সেটাও জনগণ বিবেচনায় নিবে। কিন্তু তার আগে আমাদের জানা দরকার যে, বাংলাদেশ আদৌ কোন হুমকির সম্মুখিন হয়েছে কি না। আর যদি না হয়ে থাকে তাহলে হঠাৎ করে একটি বিশেষ দেশের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রশ্ন আসছে কেন? আর যদি সেটা আসে তাহলে আমি মনে করি জনগণের সেটা জানানোর দরকার আছে।


এদিকে চীন থেকে সাবমেরিন কিনেছে বাংলাদেশ তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কোন নেতিবাচক বক্তব্য শোনা না গেলেও ভারতের সাথে সম্ভব্য চুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়ে গেছে। তাহলে ভারতে সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার চেয়ে কি রাজনীতিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে? জবাবে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভারত বিরোধী সেন্টিমেন্ট তৈরি করে রাজনীতিতে একটা স্বার্থ হাসিল করার বিষয় আছে।


তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যাচ্ছেন তখন কিন্তু তিনি সব বিষয়েই অবহিত হয়েই যাবেন। সেখানে আলোচনা হবে। তারপরে কি কি সিদ্ধান্ত হবে সেটা কিন্তু আলোচনার আগে বলা মুশকিল।


কিন্তু আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, এখানে রাজনৈতির কোন খেলা নেই বরং তার দল বিএনপি মনে করে অস্ত্র কেনার বিষয়টি সশস্ত্রবাহিনীর প্রয়োজনের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক হওয়া উচিত।


তিনি আরও বলেন, আজকে যে কথাগুলো উঠেছে সেটা হচ্ছে, ভারত আমাদের কাছে ৫শ’মিলিয়ন ডলারের একটা ক্রেডিট অফার করতে চেয়েছেন। পত্রিকার খবর অনুযায়ী আমরা জানি যে, ভারত আমাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে চান। কিন্ত আমার জানামতে ভারত নিজেই বিভিন্ন দেশ থেকে অস্ত্র কিনে।


তাছাড়া বাংলাদেশ চীন, রাশিয়া থেকে অস্ত্র কিনে সেখানে আবার নতুন করে কেন ভারতে থেকে অস্ত্র কিনতে হবে? সেটা আমার দল সমর্থন করে না। আমরা মনে করি এই বিষয়ে জনগণের জানা দরকার।



সর্বশেষ খবর