Photobazar24
মঙ্গলবার / ২২শে অগাস্ট ২০১৭

অপরাধ
এটিএম জালিয়াতিতে কোটি টাকা আত্মসাৎ, রিমান্ডে
এটিএম জালিয়াতিতে কোটি টাকা আত্মসাৎ, রিমান্ডে

ফটোবাজার ; এটিএম কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ১১ জনকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম কাজী কামরুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
এঁরা হলেন শাহ আজিজ সোহেল (৩৬), তাঁর সহযোগী জালাল হোসেন ওরফে সুমন (২৭), মো. রানা (২৪), মো. ওয়াহেদ (২০), কামরুজ্জামান ওরফে সুমন (৩০), মো. পারভেজ (২৩), ডিএনসিসির ট্রেড লাইসেন্স শাখার কর্মচারী নূরে আলম (৪৫), ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম (৩৭), লুৎফর রহমান ওরফে সুজন (৪২), আবদুল আলী (৪০) ও জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫)।
 
এর আগে এই আসামিদের আদালতে হাজির করে বাড্ডা থানার পরিদর্শক কাজী আবুল কালাম ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামিরা সংঘবদ্ধ পেশাদার সন্ত্রাসী ও আন্তর্জাতিক মানের তথ্য ও অর্থ লেনদেন পাচারকারী। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকারসহ তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি হ্যাককারী সিন্ডিকেটের অন্যতম সক্রিয় বাহিনী। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করাসহ ভুয়া এটিএম ডেভিড, ক্রেডিট কার্ড অবৈধভাবে তৈরি করে থাকে।


রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, আসামিরা ব্যাংকের এমএসআরএমের মাধ্যমে গোপন পিন নম্বর বিশেষ কৌশলে হ্যাক করে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনসহ তথ্য আদান-প্রদান করে জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।


শুনানি শেষে আদালত আসামিদের পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন।


মামলার নথি থেকে জানা যায়, আসামিদের কাছ থেকে এটিএম কার্ড তৈরির সরঞ্জাম, বিশেষ ধরনের প্রিন্টার, বিভিন্ন ব্যাংকের ৮০০ এটিএম কার্ড, ১০০টি খালি এটিএম কার্ড ও কার্ড পাঞ্চ করার ছয়টি যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।


গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ১০ মার্চ তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এক নারী কর্মী র‍্যাব ১০-এর কাছে লিখিত অভিযোগে জানান, দেশি-বিদেশি একটি চক্র ডেভিড কার্ড জালিয়াতি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাবের গোয়েন্দা সদস্যরা তদন্ত শুরু করেন। পরে র‍্যাব-১০-এর একটি দল গত মঙ্গলবার বাড্ডা ও পান্থপথ এলাকা থেকে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও খালি এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়। খালি কার্ডগুলো ক্রেডিট কার্ডে রূপান্তরিত করে এতে বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের ক্লোন করা নম্বরগুলো সংযোজন করা হতো।


মুফতি মাহমুদ খান বলেন, আটক শাহ আজিজ সোহেল দুবাই থাকতেন। সেখানে থাকার সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এরিন লিমোর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তাঁর কাছ থেকে আজিজ শেখেন কীভাবে কার্ড ক্লোন করে টাকা উত্তোলন করতে হয়। দেশে এসে টাকা তোলার পর একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রে এরিনের কাছ পাঠিয়ে দিতেন আজিজ। এ কাজে সহায়তার জন্য রানা ও জালাল হোসেন ওরফে সুমনকে নিয়োগ করেন।


মুফতি মাহমুদ বলেন, এই চক্র প্রবাসীদের কার্ড জালিয়াতি করত। কারণ তাঁরা দীর্ঘদিন লেনদেন করেন না। বাংলাদেশের গ্রাহকদের কার্ড জালিয়াতি করা তাঁদের কাছে নিরাপদ ছিল না। কারণ, এসব কার্ড জালিয়াতি করতে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইলে খুদে বার্তা পৌঁছে যেত। আজিজ ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের চুক্তিবদ্ধ দোকান বা শপিং মলের মাধ্যমে জালিয়াতি করে টাকা তুলতেন। এতে দোকানি পণ্য বিক্রি না করে ২০ শতাংশ লাভ পেতেন এবং আজিজ পেতেন ৮০ শতাংশ। এ কারণে তাঁরা এটিএম বুথে টাকা না তুলে সোয়াপ যন্ত্র ব্যবহার করতেন।

 

চুক্তিবদ্ধ ব্যবসায়ীরা তাঁদের কাছে থাকা সোয়াপ যন্ত্র জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের দিয়ে দিতেন। তাঁরা বাসায় নিয়ে কার্ড জালিয়াতি করে টাকা তুলতেন।


উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম বুথে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসিয়ে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির পর টাকা লোপাটের ঘটনা জানাজানি হলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে এটিএম বুথের সিসি ক্যামেরার (ক্লোজড সার্কিট) ছবি দেখে জার্মানির নাগরিক পিওতর সিজোফোন মুজারেক এবং তিন ব্যাংক কর্মকর্তাসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই বছরের মে মাসে ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে আরেকটি ব্যাংকের বুথ থেকে এক চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রথম আলো



সর্বশেষ খবর